নিজস্বপ্রতিবেদক :
সুনামগঞ্জের শস্যভাণ্ডার হিসাবে খ্যাত জগন্নাথপুর উপজেলার বৃহৎ নলুয়া, মই ও পিংলার হাওর সহ ছোটবড় ১৫টি হাওরে নির্ধারিত সময়ে উপযুক্ত বেরী বাধঁ নির্মান না করায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে স্হানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।
পাউবো সুত্র জানায়, এবার উপজেলার বৃহৎ হাওর নলুয়া, মই ও পিংলার হাওরের হাওর রক্ষা বেরী বাধঁ নির্মানে সরকার কর্তৃক ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
৩৭ টি পিআইসির মাধ্যমে ১৫ ডিসেম্বর ফটোশেসন করে দায়সারাভাবে কাজ শুরু করেন।
২৮শে ফেব্রুয়ারি কাজের মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত হাওর রক্ষা বাধঁ এর সিকি ভাগ কাজও হয়নি। গত দেড় মাসে উপযুক্ত হাওর রক্ষা বাধঁ নির্মিত না হওয়ায় উপজেলার হাজার হাজার কৃষক রয়েছেন দুশ্চিন্তার মধ্যে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন সরকারী বরাদ্দকৃত টাকার সটিক কাজ না করে উপজেলা প্রশাসনের দূর্নিতী বাজ কর্মকর্তা ও কতিপয় পিআইসির সভাপতিরা সরকারী বরাদ্ধ লুটপাট করছেন। নলুয়া হাওরের বেশ কয়েকটি বাধঁ সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে একটি বাধঁ ও সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক উচ্চতা দিয়ে করা হয়নি। বাধঁ গুলোতে দায়সারাভাবে মাটি ফেলা হয়েছে। আবার অনেক পুরাতন বাধঁ গুলোতে মাটি খুঁড়ে নতুন বাধের মতো দেখানো হচ্ছে। কোন কোন পুরাতন বাধঁ এর নীচ থেকে মাটি খুঁড়ে বাধঁ দেখানো হচ্ছে। প্রত্যেক প্রজেক্টে সাইনবোর্ড সাটানোর নিয়ম থাকলেও কোন সাইনবোর্ড পরিলক্ষিত হয়নি।
প্রশাসনের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা দের সাথে পিআইসি গুলোর অনৈতিক সম্পর্ক থাকায় এখানে হাওর রক্ষা বাধঁ নির্মানে ফ্রি ষ্টাইল দূর্নীতি চলছে। ইউএনও বরকত উল্লার বিরুধ্বে এলাকা বাসীর রয়েছে নানা অভিযোগ।
নিয়ম অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারী হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় হাওরের ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের একটি প্রকল্পের শতভাগ কাজও ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত শেষ হয়নি। এমনকি কোন কোন প্রকল্প এলাকায় এখনও মাটি পড়েনি। ফলে কৃষকরা হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন।
জানাযায়, জেলার অন্যতম বৃহৎ হাওর ও উপজেলার সর্ববৃহৎ নলুয়া হাওরটি এখনো অরক্ষিত রয়েছে। ওই হাওরের গাদিয়ালা এলাকায় এখনো মাটি পড়েনি। এটি হাওরের ১১ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রকল্পে ০.৮১২ কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধ ও ভাঙাবন্ধকরনের জন্য ২৮ লাখ ১৪ হাজার ৯১৭ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ওই বাঁধের ৫০০ ফুট অংশে এক মুটো মাটি ও পড়েনি। বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি জান্নাত মিয়া জানান,অনেক দুর থেকে মাটি সংগ্রহ করে আনায় কাজ শেষ করতে বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়াও গাড়ি নষ্ট হয়ে কাজে বিঘ্ন ঘটে। আশা করছি ৮/ ১০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে।
নলুয়া হাওরের ৮ নম্বর বেড়িবাঁধ সালিকা এলাকায় অবস্হিত। এই প্রকল্পের হালেয়া নামক স্থান থেকে সালিকা এলাকা পর্যন্ত ১.১৫০ কিঃ মিঃ কাজের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৯ লাখ ৬৩ হাজার দুইশত টাকা। ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে কৃষকের কাছে এটি পরিচিত থাকলেও প্রকল্পের কাজ গতকাল রোববার পর্যন্ত শেষ হয়নি। প্রকল্পের সভাপতি বাহার মিয়া প্রকল্পের মাটি ফেলার কাজ গতকাল শেষ হয়েছে বলে দাবি করেন। ড্রেসিং ঘাস লাগানো সহ আনুষঙ্গিক কাজ কয়েক দিনের মধ্যে শেষ করবেন বলে জানান ।
নলুয়া হাওরের দাসনোওয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা নির্মল দাস জানান, নলুয়ার হাওরটি সবসময় অকাল বন্যার ঝুঁকিতে থাকে তাই সময়মতো কাজ শেষ না হলে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় ভুগেন। এ হাওরের ফসলের ওপর উপজেলার কৃষকরা নির্ভরশীল। বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় আমরা চিন্তিত।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির নেতা শামীম আহমেদ জানান,নিয়ম অনুযায়ী হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ সংস্কার কাজ ১৫ ডিসেম্বর শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ করার কথা অথচ উপজেলার ৩৭ প্রকল্পের মধ্যে একটি প্রকল্পের কাজ শেষ না করা দুঃখজনক। তিনি বলেন, এবার অতিরিক্ত টাকা বরাদ্দ দেয়ার পরও দায়সারা বাঁধ নির্মাণ সংস্কার কাজ করায় হাওর ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি বাঁধ নির্মাণ সংস্কার কাজে তদারক কমিটির গাফিলতির অভিযোগ করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলা কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা উপ সহকারী প্রকৌশলী শেখ ফরিদ বলেন জগন্নাথপুর উপজেলায় এবার ৩৭টি প্রকল্পের মধ্যে একটি প্রকল্পে মাটির কাজ বাকি। অন্য প্রকল্পগুলোতে মাটির কাজ চলছে। তিনি বলেন এবার ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দে ১৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ ভাগ কাজ হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত কোন প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ হয়নি বলে তিনি স্বীকার করে জানান, বাঁধের কাজ সমাপ্ত করতে আরো ১৫ দিন সময় বাড়ানোর জন্য তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করেছেন বলে এ প্রতিবেদক কে জানান।
এ ব্যাপারে ইউএনও বরকত উল্লাহর সাথে আলাপ করলে তিনি
লুটপাটের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, হাওরের কাজ সুস্ঠু ভাবে হচ্ছে। তিনি জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ ভাগ কাজ হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে পূরো কাজ সম্পন্ন করা হবে।
Leave a Reply