জগন্নাথপুর প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার পৌরসভার অভ্যন্তরে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন ছিক্কা জামে মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থানই নয়; এটি এলাকার ধর্মীয় মূল্যবোধ, ঐতিহ্য, স্থাপত্যসৌন্দর্য ও সামাজিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল প্রতীক। মনোমুগ্ধকর স্থাপত্যশৈলী, সুউচ্চ মিনার, সবুজ গম্বুজ এবং নান্দনিক পরিবেশের সমন্বয়ে নির্মিত এই মসজিদ প্রতিদিন অসংখ্য মুসল্লি ও দর্শনার্থীকে আকৃষ্ট করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে ছিক্কা জামে মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং দীর্ঘ চার বছরের প্রচেষ্টায় ২০১১ সালে এর নির্মাণ সম্পন্ন হয়। গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ, আর্থিক সহযোগিতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই মসজিদ আজ এলাকাবাসীর গর্বের প্রতীক।
মসজিদটির আধুনিক স্থাপত্যশৈলী দর্শনার্থীদের সহজেই মুগ্ধ করে। সুউচ্চ দুটি মিনার, দৃষ্টিনন্দন সবুজ গম্বুজ, প্রশস্ত নামাজের হল, মনোরম অজুখানা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মসজিদটির সৌন্দর্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। একসঙ্গে প্রায় ১,২০০ জন মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করতে পারেন। বিশেষ করে জুমার নামাজ ও ঈদের জামাতে হাজারো মুসল্লির উপস্থিতিতে মসজিদ প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
মসজিদটিতে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমার নামাজ, তারাবির নামাজ, কোরআন শিক্ষা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ফলে এটি শুধু ইবাদতের স্থান নয়, ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।
বর্তমানে মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা মোঃ আব্দুল আওয়াল এবং মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন মাওলানা মোঃ দুলাল আহমদ। মসজিদটির সার্বিক পরিচালনা, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছেন ছিক্কা গ্রামের সর্বস্তরের গ্রামবাসী।
ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতেও ছিক্কা জামে মসজিদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও সামাজিক কার্যক্রমে মসজিদটি এলাকাবাসীর মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
ঐতিহ্য, ধর্মীয় চেতনা ও নান্দনিক স্থাপত্যের অনন্য সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ছিক্কা জামে মসজিদ আজ জগন্নাথপুর উপজেলার অন্যতম দর্শনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লি ও দর্শনার্থীরা এর সৌন্দর্য এবং শান্ত পরিবেশে মুগ্ধ হন। এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে এই মসজিদের অবদান ভবিষ্যতেও সমানভাবে অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
Leave a Reply